ইউটিউব ভিডিও এসইও (SEO) কি ? ইউটিউব ভিডিওতে এসইও করলে কি লাভ হয় ?

আমরা যখন একটি ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করে ভিডিও আপলোড করা শুরু করি তখন থেকেই আমাদের ভিডিওতে এই এসইওর (SEO) ব্যবহার করাটা অনেক জরুরী হয়ে পড়ে । তাই যদি আপনি নিজের ভিডিওতে এসইও এর ব্যবহার না করেন , তাহলে আমি 100% গ্রান্টি দিয়ে বলতে পারি , আপনার আপলোড করা ভিডিও গুলোতে ভিজিটর খুব কম আসে । এক কথায় আসে না বললেই চলে ।

মাঝে মাঝে অনেকে কমেন্ট করে জানতে চান , আমার ইউটিউব চ্যানেলে আপলোড করা ভিডিও গুলোতে কেন ভিউজ হচ্ছে না ? ভিজিটর কেন দেখছে না ? কি করব ? আমার আপলোড করা ভিডিওগুলো গুগোল বা ইউটিউবে সার্চ রেজাল্টে কেন দেখাচ্ছে না । এমন আরো অনেক প্রশ্ন করে থাকেন । তাই আমি তাদেরকে এবং যারা যারা এই প্রশ্নগুলির উত্তর জানতে চান তাদের বলতে চাই যে , আপনার নিজের ইউটিউব চ্যানেলে আপলোড করা ভিডিও গুলোতে এসইও করছেন না বা যদিও করছেন তা সঠিকভাবে হচ্ছে না । এই কারণেই আপনাদের ইউটিউব চ্যানেলে আপলোড করা ভিডিও গুলোতে ভিজিটর আসছেনা বা ভিডিও গুলো গুগোল সার্চ ইউটিউব সার্চ পেজে দেখানো হচ্ছে না ।

তাহলে এখন কি করা যায় ? কি করলে আপনাদের আপলোড করা ভিডিও গুলোতে ভিজিটর বা ট্রাফিক আসবে ? এটাই যদি আপনার প্রশ্ন হয়ে থাকে তাহলে একটাই উত্তর , আপনার ইউটিউব চ্যানেলের ভিডিও গুলো কে সঠিকভাবে এসইও করুন ।

তাহলে চলুন এসইও ব্যাপারে জেনে নি ।

  • ইউটিউব ভিডিও এসইও কি ?
  • ইউটিউব এর ভিডিও গুলিতে এসইও কেন জরুরী ?
  • নিজের ইউটিউব চ্যানেলের ভিডিও গুলোতে এসইও কিভাবে করবেন ?

ইউটিউব ভিডিও এসইও (SEO) কি ?

ইউটিউব ভিডিও এসইও কি ? ইউটিউব ভিডিও এসইও এর বিষয়ে জানার আগে আপনাদের এসইও ব্যাপার জানতে হবে । এসইও (SEO) এর মানে হলো অপটিমাইজেশন । যার কাজ হলো আপনার অনলাইন কনটেন্ট যেমনঃ- ওয়েবসাইট , ইউটিউব ভিডিও বা যে কোন ফাইল সার্চ ইঞ্জিনগুলোতে টপ টেনএ অর্থাৎ কোন কিছু সার্চ করলে ওই পেজের প্রথম দশটি রেজাল্টের ভিতর দেখানো ।

সার্চ ইঞ্জিন বলতে আমরা বিশেষ করে গুগল সার্চ , ইয়াহু সার্চ এবং ইউটিউব এর ভিডিও গুলো সার্চ বুঝি । যেমন আপনি গুগলে কোন একটা বিষয়ে সার্চ করলে ঠিক ওই বিষয়ের উপরই অনেকগুলো কনটেন্ট চলে আসে । কিন্তু কেন ? অনলাইনে তো হাজার হাজার কনটেন্ট রয়েছে । তার ভেতর থেকে আপনি যেইটা সার্চ করেছেন ওই টফিকের কনটেন্টগুলো কেন আসলো ? এর মধ্যে অন্য কোন কন্টাক্টও তো আসতে পারতো ? তাহলে শুধু আপনার সার্চ করা টফিকের কনটেন্ট কেন আসলো ? এর একটাই কারন এসইও ।

ঠিক সে রকম আপনি নিজের ইউটিউব চ্যানেলের ভিডিও গুলো তে সঠিকভাবে এসইওর ব্যবহার করলে গুগোল বা ইউটিউব সার্চ অর্থাৎ সার্চ ইঞ্জিন আপনার আপলোড করা ভিডিওর ব্যাপারে ভালো করে বুঝতে পারবে এবং আপনার ভিডিওর সাথে জড়িত কোন শব্দ বা ওয়ার্ল্ড দিয়ে কেউ সার্চ করলেই ইউটিউব বা গুগল সার্চে আপনার ভিডিও সবচেয়ে প্রথমে দেখাবে । প্রথমে না হলেও , প্রথম দশের তালিকায় থাকবে । এতে আপনি ফ্রিতে নিজের ভিডিওতে অনেক ভিজিটর পেয়ে যাবেন ।

তাহলে ইউটিউব ভিডিও এসইও হলো এমন একটি নিয়ম বা প্রক্রিয়া যার সঠিক ব্যবহার করলে আপনার আপলোড করা কনটেন্ট বা ভিডিওগুলো কে গুগল বা ইউটিউব সার্চে দেখানোর সবচেয়ে প্রথম দশটি ভিডিও বা রেজাল্টে দেখানো ।

ইউটিউব এর ভিডিও গুলো তে এসইও (SEO) কেন গুত্বপূর্ণ ?

ইউটিউবে ভিডিও আপলোড করার আগে আপনি অবশ্যই কোন একটা টপিক বা বিষয় নিয়ে ভিডিওটি তৈরি করে নেন । কিন্তু যে বিষয়ে আপনি ভিডিও তৈরি করছেন সেই বিষয়ে বা টপিকে আপনি একবার হলেও ইউটিউবে সার্চ করে দেখবেন , আগের থেকেই আপলোড সেই বিষয়ে অনেক ভিডিও ইউটিউব দেখিয়ে দিবে । এখন যদি আপনার তৈরি ভিডিওর বিষয়ে যদি আগে থেকে অনেক ভিডিও ইউটিউবে থাকে , তাহলে আপনার ভিডিও বানানোর মানে কি ? আপনার ভিডিওকে ইউটিউব তার সার্চ রেজাল্টে প্রথমে লোকদের কি দেখাবে ? তার কাছে তো আগে থেকেই আপনার ভিডিওর মতোই হাজারো ভিডিও রয়েছে । না তা কখনোই দেখাবেনা ! এটাকেই বলা হয় কম্পিটিশন বা প্রতিযোগিতা ।

যার ফলে আপনি যদি কেবল ভিডিও বানিয়ে ইউটিউবে আপলোড দেন তাহলে আপনি কোনদিন সেই ভিডিওতে ট্রাফিক বা ভিজিটর পাবেন না । কেননা আগে থেকেই সব বিষয়ে বা টপিকে ইউটিউবে হাজার হাজার ভিডিও আপলোড করা রয়েছে এবং ইউটিউব সেই ভিডিওগুলোকে তার সার্চ রেজাল্টে ভিজিটরকে দেখাবে । এখন এখানেই এসইও এর জ্ঞান বা কাজ আপনাকে কাজে দিবে ।

আপনি নিজের আপলোড করা ভিডিওতে এসইও করে ইউটিউব অ্যালগরিদম কে এটাই ভালো করে বুঝাতে পারবেন যে আপনি যে বিষয়ে ভিডিও বানিয়েছেন সেটা অন্যদের থেকে অনেক ভালো বা সেই বিষয়ে আপনার ভিডিওতে সবকিছু আছে । এক কথায় আপনি আপনার ভিডিওর বিষয়টি সার্চ ইঞ্জিনকে ভালোভাবে বুঝিয়ে দিতে পারবেন এসইও এর মাধ্যমে । এতে যখনই কেউ ইউটিউবে বা গুগলে কিছু সার্চ করবে এবং সে বিষয় বা টপিক যদি আপনার ভিডিওর সাথে ম্যাচ করে বা জড়িত থাকে তাহলে ইউটিউব আপনার ভিডিও তার সার্চ রেজাল্টের প্রথম দিকেই দেখাবে । মানে আপনার ভিডিও রেংকিং ভালো হবে । কারণ আপনি এসইও এর মাধ্যমে আগে থেকেই ইউটিউবের অ্যালগরিদম কে ভালো ভাবে বুঝিয়ে দিয়েছেন যে , আপনার ভিডিওটি কোন টপিক বা বিষয়ের উপর ।

আপনি যদি ইউটিউব ভিডিওগুলতে এসইও না করে থাকেন , তাহলে ইউটিউবের অ্যালগরিদম কোনদিনও এটা বুঝতে পারবে না যে , আপনার ভিডিওটির বিষয় কি । কখন আপনার ভিডিও লোকদের দেখানো উচিত । এতে আপনি কোনদিনও নিজের ভিডিওতে ভালো ভিউজ পাবেন না ।

তাহলে এখন হয়তো আপনি ভালভাবে বুঝে গেছেন যে ইউটিউব এসইও কতটা গুরুত্বপূর্ণ একজন ইউটিউবারের কাছে ।।

ইউটিউব ভিডিওতে এসইও (SEO) কিভাবে করবেন ?

আমি আপনাদের বিস্তারিতভাবে বলব যে , কিভাবে ইউটিউব ভিডিওতে এসইও করবেন , ভিডিওগুলোকে রেঙ্ক কিভাবে করাবেন । শুধুমাত্র আপনি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এই পোস্টটি পড়তে থাকেন । তা না হলে আপনি ভালো করে বুঝতে পারবেন না ইউটিউব ভিডিও এসইও কিভাবে করবেন ।এ ব্যাপারে জানার আগে আমি আগেই একটা কথা বলতে চাই , আপনি যে বিষয়ে ভিডিও বানাবেন সেই বিষয়ের চাহিদা ইন্টারনেটে বা ইউটিউবে আছে কিনা তা অবশ্যই জেনে নিবেন । না হলে এটা হবে যে , আপনি কষ্ট করে ভিডিও বানাবেন কিন্তু সেই ভিডিও দেখার কেউ থাকবে না । এসইও করেও আপনার কোন লাভ হবে না । তাই ভিডিও সব সময় এমন বিষয়ে বানাবেন যে বিষয়ে ভিজিটররা ইউটিউবে অনেক সার্চ করে ।

কোন টপিক , কিওয়ার্ড বা বিষয়ে ইউটিউবে বেশি সার্চ করা হয় , ইউটিউবে লোকেরা কোন ভিডিও বেশি সার্চ করছে বা আপনি যে বিষয়ে ভিডিও বানাবেন ভাবছেন সে বিষয়ে লোকেরা সার্চ করে কিনা তা আপনি অনেক সহজে জানতে পারবেন কিছু অনলাইন টুলস ব্যবহার করে । এই টুলস গুলোর মধ্যে আমি যেটা ব্যবহার করি সেটা হল kyeworlds Everywhere

এক্সটেনশন । এই এক্সটেনশন আপনি নিজের ক্রোম ব্রাউজার বা ফায়ারফক্স ব্রাউজারে ইন্সটল করে নিতে পারবেন । এরপর আপনি গুগল বা ইউটিউবে গিয়ে আপনার ভিডিওর বা টপিক লিখে সার্চ করলে হবে আপনার ভিডিওর টপিক বা বিষয় সম্পর্কে যানতে পারবেন ।

এতে আপনার দুটো লাভ হবে:-

  • আপনি যে কি ওয়ার্ড বা বিষয়ে সার্চ করবেন , সেই বিষয়ে বা কিওয়ার্ড এর সাথে জড়িত আরো অনেক শব্দ বা কিওয়ার্ড পেয়ে যাবেন । যেগুলি লোকেরা ইউটিউবে সার্চ করেন এবং সেই শব্দ বা কিওয়ার্ডগুলি ভিডিওতে ব্যবহার করে আপনি ভালো এসইও করতে পারবেন ।
  • আপনি কোন বিষয়ে ইউটিউবে সার্চ করলে ওই বিষয়ের উপর টোটাল সার্চের সংখ্যা ও দেখতে পারবেন । ফলে আপনি সহজেই বুঝতে পারবেন কোন টপিকে বা বিষয় ভিডিও বানালে আপনার বেশি লাভ হবে ।

ভিডিও এসইও করার আগেই যে বিষয়ে ভিডিও তৈরি করার কথা ভাবছেন ওই বিষয়ে ইন্টারনেটে লোকেরা কতটা ইন্টারেস্টেড তা ভালোভাবে বুঝতে হবে ।

ইউটিউব ভিডিও গুলোতে এসইও (SEO) করে রেঙ্ক করা উপায়..

আমি উপরেই বলেছি নিজের আপলোড করা ভিডিও গুলোতে ভিজিটর পেতে হলে আপনার ভিডিও ইউটিউব সার্চ রেজাল্টের সবচেয়ে উপরে থাকতে হবে । এতে যখন কেউ কোনো বিষয়ে সার্চ করবে তখন আপনার ভিডিওটা ঐ রিলেটেড হলে তারা সহজেই পেয়ে যাবে এবং এতে আপনার ভিজিটর বাড়বে । কিন্তু আমি উপরে এটাও বলেছি যে আজকাল যে কোন বিষয়ে আপনি ভিডিও বানান তাতে কম্পিটিশন বা প্রতিযোগিতা থাকবেই । এতে আপনার ভিডিও লোকেরা খুঁজেই পাবে না । কেননা ইউটিউব এর কাছে আগে থেকেই অনেক ভিডিও রয়েছে ।

তাই আপনারা যদি নিজের ভিডিওতে ভিজিটর আনতে চান তাহলে এর একটাই উপায় আছে সেটা হল ইউটিউব ভিডিও এসইও এবং তার সঠিক প্রয়োগ । আমি নিচে যা যা এসইও এর প্রয়োগ সম্পর্কে বলবো সেগুলো আপনারা ভালো করে বুঝে নিবেন এবং নিজের ইউটিউব ভিডিওতে প্রয়োগ করবেন । এতে আপনার ভিডিওটি রেঙ্ক করবে এবং সহজেই বেশি বেশি ভিউজ হবে ।

01. ভিডিও টপিক বা বিষয়ে ভালো করে বেছে নিন…

সর্ব প্রথমে , আমি বলব ভিডিও টপিক বা বিষয়ে বা কিওয়ার্ড রিসার্চ এর ব্যাপারে । আমাদের সবচেয়ে বড় ভুল এটাই যে , আমরা কিওয়ার্ড রিসার্চ না করেই ভিডিও বানিয়ে ফেলি । ফলে এতে এটাই হয় যে , আমাদের ভিডিও দেখতে কেউ আসে না । আর আসবেই বা কি করে ? কেউ সার্চ করলে তো আমাদের ভিডিওটা তাদের কাছে পৌছায় না ।

কী-ওয়ার্ড রিসার্চ এর মানে হলো আপনি যে বিষয়ে বা টপিকে ভিডিও বানাচ্ছেন সেই বিষয়ে বা টপিকের উপরে ভালোভাবে রিসার্চ করে নেওয়া । আপনার বেছে নেওয়া কিওয়ার্ড বা টপিকে লোকেদের রুচি আছে কিনা ? আপনি যে বিষয়ে ভিডিও বানাবেন সেই বিষয়ে ইউটিউবে সার্চ হয় কিনা ? সেটা অবশ্যই জেনে আপনার ভিডিও তৈরি করা প্রয়োজন ।

কোন টপিক বা বিষয়ে ইউটিউবে বেশি সার্চ হয় এবং সে কিওয়ার্ড মাসে কতবার সার্চ হয় সেটা আপনাকে আমি উপরের বলা নিয়ম দিয়ে খুঁজে বের করতে হবে । এর বাইরেও Google Search , Kyeworld Tool , .in , Keyword Planner etc এই অনলাইন ফ্রী টুলস গুলো ব্যবহার করে আপনারা নিজের ভিডিওর জন্য অনেক লাভজনক টপিক বা কিওয়ার্ড খুঁজে পেয়ে যাবেন । এভাবে লাভজনক টপিক বা বিষয়ে খুঁজে ভিডিও তৈরি করলে আপনার ভিডিওগুলি সহজে রেঙ্ক করবে এবং ভিজিটর আসা শুরু করবে । না হলে আপনি ভিডিও বানাতে থাকবেন কিন্তু সেগুলি কেউ দেখতে আসবে না । কারণ আপনার আপলোড করা ভিডিওগুলি লোকেরা খুঁজেই পাবে না ।

02. আকর্ষণীয় থামলাইন তৈর করুন…

ইউটিউব ভিডিও থামলাইন বলতে কোন ভিডিওর প্রথমে যে ছবিটি আমরা দেখতে পাই তাকেই বোঝায় । একটি ভিডিও রেঙ্ক করানোর জন্য থামলাইন এর গুরুত্ব অনেক বেশি । কারণ একটা গল্পের মাধ্যমে বোঝানোর চেষ্টা করছি , যখন কেউ বিয়ে করার কথা ভাবে তখন প্রথমেই মেয়েটিকে দেখতে যায় । মেয়েটি দেখে যদি ভালো লাগে তাহলে বিয়ের কথা ভাবে । ঠিক তেমনি আপনার ভিডিওটি প্রথম দেখাতেই যদি ভালো না লাগে অর্থাৎ আপনার থামলাইন যদি দৃষ্টিনন্দন না হয় তাহলে আপনার ভিডিওটির উপর ক্লিক করার সম্ভাবনা অনেকটাই কম থাকে ।

তাই আপনার ভিডিও রিলেটেড আকর্ষণীয় থামলান আপনাকে তৈরি করতে হবে । কিন্তু মনে রাখবেন এমন থামলান তৈরি করবেন না , যে বিষয়ে আপনার ভিডিও নয় বা 18+ ইত্যাদি । অর্থাৎ যে বিষয়ে আপনি ভিডিওটি তৈরি করবেন ওই বিষয়ের উপর সুন্দর একটি থামলাইন তৈরি করবেন ।

03. ভিডিও ডেসক্রিপশন (Description) এবং টাইটেলে (Titel) কিওয়ার্ডের ব্যবহার…

এসইও এর জন্য ভিডিও অপটিমাইজেশন করাটা অনেক জরুরী এবং ভিডিও অপটিমাইজেশন এর সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ বা লাভজনক উপায় হল নিজের ভিডিও ডেসক্রিপশন এবং টাইটেলে ফোর্স কিওয়ার্ডের ব্যবহার । গুগোল বা ইউটিউব আপনার ভিডিও কিসের উপরে বা ভিডিওটির টপিক কি সেটা একমাত্র আপনার ভিডিও টাইটেল এবং ভিডিও ডেসক্রিপশন থেকেই বুঝতে পারে ।

ডেসক্রিপশন বা টাইটেলের উপর আপনার ভিডিওকে গুগোল বা ইউটিউব সার্চ রেজাল্টে রেঙ্ক করাবে । কিন্তু বর্তমানে শুধুমাত্র টাইটেল বা ডেসক্রিপশন এর উপর আপনার ভিডিওটি রেঙ্ক করবে না । ইউটিউব এর নতুন অ্যালগরিদম অনুযায়ী যে ভিডিওটি লোকেরা বেশি দেখবে , ওই টপিক বা বিষয়ের উপর যদি কেউ সার্চ করে তাহলে ওই ভিডিওটা আগে দেখাবে । তবে ভিডিও রেঙ্ক করানোর প্রথম ধাপ হলো টাইটেল এবং ডেসক্রিপশন ঠিকঠাক মতো দেওয়া ।

তাহলে আপনি যদি চান যে আপনার আপলোড করা ভিডিও ইউটিউব বা গুগল তাদের সার্চ রেজাল্টে সব থেকে উপরে দেখাবে , তাহলে আপনার প্রথমেই নিজের আপলোড করা ভিডিওর টাইটেল এবং ডেসক্রিপশন এ ভিডিওর সব থেকে জরুরি কিওয়ার্ড বা বিষয়গুলি লিখে দিতে হবে । এমনভাবে লিখতে হবে যাতে যেকেউ ( লোকেরা ) বা গুগোল বা ইউটিউব সহজেই বুঝতে পারে আপনার ভিডিওটির বিষয় কি ? আপলোড করার সময় ভিডিও description-এ মিনিমাম 300 থেকে 500 শব্দের ব্যবহার করবেন । আর ভিডিও টাইটেলে 25 থেকে 30 টি শব্দ রাখবেন । ফোর্স কিওয়ার্ড দুই থেকে তিনবার ব্যবহার করবেন ।

নোটঃ- ফোর্স কিওয়ার্ড মানে যে বিষয়ে বিশেষ করে আপনি ভিডিও বানাচ্ছেন , উদাহরণস্বরূপ – আমি যদি একটি ভিডিও বানাই ইউটিউব এসইও এর উপরে । তাহলে ফোর্স কিওয়ার্ড হতে পারেঃ-ইউটিউব এসইও বাংলা টিউটোরিয়াল , ইউটিউব ভিডিও এসইও কিভাবে করবেন , ইউটিউব ভিডিও এসইও টিপস বাংলা , এবং এমন অনেক কিওয়ার্ড যেগুলি আমার ভিডিওর সাথে জড়িত এবং যেগুলি লোকেরা গুগল বা ইউটিউব এ সার্চ করলে আমার আপলোড করা ভিডিওটি ইউটিউব বা গুগলের সার্চ রেজাল্টের প্রথম দিকে দেখায় । কিন্তু কিওয়ার্ড এর বেশি ব্যবহার করবেন না । সাধারণভাবে 3 থেকে 4 টা কিওয়ার্ড ব্যবহার করে টাইটেল বা ডেসক্রিপশনে লিখবেন ।

04 . ইউটিউব ভিডিওতে এসইও (SEO) ট্যাগ এর ব্যবহার…

যখন আপনারা ইউটিউব এ ভিডিও আপলোড করবেন , তখন টাইটেল এবং ডেসক্রিপশন লেখার সাথে সাথে আপনাকে আরো একটি অপশন দেওয়া হবে । সেই অপশনটি হল ভিডিও ট্যাগ বক্স । ভিডিও ট্যাগ এটি ভিডিও ইউটিউব এর সার্চে রেঙ্ক করানোর জন্য অনেক জরুরী । এতে সার্চ ইঞ্জিন যেমন;- গুগোল বা ইউটিউব ভিডিও সার্চ ইঞ্জিন আপনার ভিডিওর বিষয়ে অনেক ভালো ভাবেই বুঝতে পারে । এতে যখন কেউ আপনার ভিডিওটির ট্যাগ এর সাথে জড়িত কিছু সার্চ করেন , তখন ইউটিউব আপনার ভিডিওটি তার রেজাল্ট পেজের প্রথমে দেখিয়ে দেয় ।

তাই সব সময় নিজের আপলোড করা ভিডিওতে এসইও ট্যাগ ব্যবহার করবেন । উদাহরণস্বরূপঃ- আপনি আপনার ভিডিও টপিক বা বিষয়ের সাথে জড়িত এমন কিছু ট্যাগ ব্যবহার করবেন । এই ট্যাগ ব্যবহার করলে আপনার ভিডিও ইউটিউব এ রেঙ্ক করানোর পাশাপাশি , আপনার ভিডিও রিলেটেড ভিডিও লিস্টেও লোকদের দেখাবে । এতে আপনার ভিডিওতে আরো বেশি ভিজিটর আসার সুযোগ তৈরি হবে ।

05. আপলোড করার আগে ভিডিও ফাইল নেম চেঞ্জ করুন…

আমরা যখন কোন ভিডিও রেকর্ড করি বা তৈরি করি তখন দেখবেন ওই ভিডিওটি ইচ্ছামত একটি নাম হয়ে যায় । যেটাকে আমরা বলি টাইটেল । আর যা দেখে আমরা বুঝতে পারি এই ভিডিওটি কিসের । তো ইউটিউবে আপনার ভিডিওটি আপলোড করার আগেই আপনার তৈরি করা ভিডিওটি রিনেম (Rename) করে নিতে হবে । একটি ভিডিও কিভাবে রিনেম করতে হয় তা নিশ্চয়ই ভালোভাবেই জানেন । তো রিনেম করে আপনি যে বিষয়ের উপর ভিডিওটি বানাচ্ছেন ঠিক ওইটাই লিখে দিবেন ।

যেমনঃ- ইউটিউব ভিডিও এসইও এর উপর ভিডিও বানালে আপনার তৈরি করা ভিডিওটি রিনেম করে লিখবেন , ইউটিউব ভিডিও এসইও টিউটোরিয়াল বাংলা ।

06. বিস্তারিত বা ডিটেলস সহ ভিডিও তৈরি করা..

অর্থাৎ আপনি যে বিষয়ে বা টপিকের উপর ভিডিও তৈরি করবেন সেই বিষয়ে পুরোপুরি ধারণা নিয়েই আপনি ভিডিওটি তৈরি করবেন । যাতে আপনার ভিডিওটি দেখে একজন ভিজিটর ওই বিষয়ে সম্পূর্ণ বুঝতে পারে । ফলে আপনার ভিডিও গুলোর প্রতি ভিজিটররা আকর্ষিত হবে । কিন্তু আপনি যদি যে বিষয়ে ভিডিও তৈরি করলেন , সেই বিষয়ে ভিজিটরদের ঠিকঠাকমতো বুঝাতে না পারেন তাহলে কখনই দ্বিতীয়বার ওই ভিজিটর আপনার ভিডিও দেখবে না । তাই আপনার ভিডিও টপিক বা বিষয় অনুযায়ী বিস্তারিতভাবে ভিডিওটি তৈরি করবেন । এতে যে ভিজিটর আপনার ভিডিওটি দেখবে সে পুরোপুরি আপনার ওই ভিডিওটি না দেখে যাবে না ।

কিন্তু কোন ভিজিটর যদি আপনার ভিডিও একটু দেখেই চলে যায় তাহলে আপনার ওই ভিডিওটি রেঙ্ক করবেনা । কারণ ইউটিউব বুঝতে পারবে এই ভিডিওটি ভিজিটর তেমন দেখছে না । তাহলে এই ভিডিওতে প্রয়োজনীয় কিছুই নাই । ফলে ইউটিউব নিজে থেকে আপনার ওই ভিডিওটি ডাউন করে রাখবে । যার ফলে কখনোই আপনার ওই ভিডিও রেঙ্ক করবে না । আর যত বেশি সময় ভিজিটর আপনার ভিডিওটি দেখবে ততই আপনার ভিডিওটি রেঙ্ক করতে থাকবে ।

07. ভিডিওর মধ্যে অপ্রয়োজনীয় কথা বলবেন না…

একটা কথা চিন্তা করুন আমাদের মূল উদ্দেশ্য ভিডিও গুলো রেঙ্ক করানো । আর তার জন্য দরকার ভালো ভালো ভিডিও আপলোড করে ভিজিটরদের খুশি করা । কিন্তু আপনি এমন একটি ভিডিও আপলোড করলেন যার টাইটেল , ডিসক্রিপশন , ট্যাগ , থামলাইন সবকিছু ঠিকঠাক মত । কিন্তু যখনই ভিজিটর আপনার ভিডিওটি দেখতে থাকলো ,তখন দেখল যে আপনি ভিডিও টপিকের বাইরে বেশি কথা বলছেন , যা প্রয়োজনীয় নয় । তখন আপনার ওই ভিজিটর বিরক্ত বোধ করবে এবং আপনার ভিডিও কেটে দিবে । কারণ ইউটিউব এ হাজার হাজার ভিডিও রয়েছে । কেউ সময় নষ্ট করে আপনার অপ্রয়োজনীয় কথা শুনবে না । তাই ভিডিওর মধ্যে কখনো অপ্রয়োজনীয় কথা বলবেন না ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *