কি বই কিনবেন, পেপারব্যাক নাকি হার্ডকভার

বর্তমান ইন্টারনেটের যুগে চাইলে যে কোনো বইয়ের নরমকপি (softcopy) একটু খোঁজাখুঁজি করলে মুফতে পাওয়া যায়। তাই একটি প্রশ্ন উত্থাপিত হতেই পারে যে, আমি কেন বই কিনব, যদি তার নরমকপি বিনামূল্যে পাওয়া যায়? তবে প্রশ্নকর্তা বই-ই কিনবেন। তাই এই প্রশ্নের হাত থেকে বেঁচে গেলাম। বই-ই কিনবেন ধরে নিয়ে এবার আগানো যাক, কি কি বিষয় চিন্তা ভাবনা করা উচিত বইটি কেনার সময়।

১) পেপারব্যাক, হার্ডকভার, সফটকপি নাকি অডিওকপি:

মোটামুটি সকল বই এই চারটি আকারে বের হয়। পেপারব্যাক হালকা। সহজে বহন করা যায়। দামও কম। অন্যদিকে হার্ডকভারের বইটি হয় ভারী। বইটি মুড়িয়ে পড়া যায় না। আবার দামও বেশী। তাই আপাত দৃষ্টিতে মনে হচ্ছে কেন আমি শুধু শুধু হার্ডকভার কিনব? উত্তরটি হচ্ছে, হার্ডকভার বইটি অনেকদিন টিকবে। এর কাগজের মান ও বাঁধাইয়ের কাজটি উন্নত। তাছাড়া দেখতেও সুন্দর লাগে। হাতে ধরে পড়তে বেশ আরাম বোধ হয়। নিজের বই সংগ্রহশালা তৈরিতে তাই অনেকে হার্ডকভার কিনে থাকেন। আর সফটকপি কিনতে পারেন যদি আপনার কিন্ডেল এর মত ই-বুক রীডার থেকে থাকে। সুবিধা হচ্ছে আপনি একসাথে অনেকগুলো বই বহন করতে পারবেন। আর আপনার যদি পড়ার চেয়ে শোনার প্রতি আগ্রহ বেশী থাকে তাহলে অডিওবুকও কিনতে পারেন। কানে হেডফোন লাগিয়ে হাতে বইটি নিয়ে পড়া + শোনার এই কম্বিনেশনটি খুব ভাল।

২) সংস্করণ:

বিশেষ করে পাঠ্যপুস্তক বইয়ের জন্য এই পয়েন্টটি গুরুত্বপূর্ণ। আপনি নতুন সংস্করণ কিনতে পারেন যদি বইটিতে নতুন কোনো অধ্যায় বা কোনো পরিমার্জন যোগ করা থাকে।

৩) নতুন বই না পুরাতন বই:

বইয়ের দোকানে সেকেন্ড হ্যান্ড বইও কিনতে পাওয়া যায়। টাকার স্বল্পতা থাকলে আপনি তা করতে পারেন। অনেক সময় নতুন নিউজপ্রিন্টের বইয়ের দাম একটি সেকেন্ডহ্যান্ড অরিজিনাল বইয়ের দামের প্রায় সমান। সেক্ষেত্রে অনেকে নতুন বই না কিনে পুরাতন বইও কিনে থাকতে পারেন।

৪) প্রচ্ছদ:

শুনতে অবাক হলেও অনেকেই আছেন যারা judge a book by its cover এই দলে পড়েন। একই বই বিভিন্ন প্রচ্ছদে পাওয়া যায়। সুন্দর প্রচ্ছদ দেখেও অনেকে বই কিনে থাকেন।

৫) ইলাস্ট্রেটেড নাকি নন-ইলাস্ট্রেটেড:

কথায় আছে A picture is worth than a thousand words. বইপ্রেমির এক দল আছেন যারা কোনো বইয়ের illustrated edition এর জন্য অপেক্ষা করে থাকেন। বইয়ের পাতায় পাতায় রংবেরংয়ের ছবি তাদের কল্পনার জগৎকে আরও সমৃদ্ধ করে থাকে। তবে এ ধরণের বইয়ের দাম একটু বেশী হয়।

৬) মূল বই নাকি অনুবাদ:

আপনি যদি মূল বইয়ের ভাষা না জানেন তবে তো অনুবাদ বইটি কিনতে হবে এ ব্যাপারে আর ভাববার কোনো অবকাশ নেই। তবে আপনি যদি মূল ভাষাটি ভাল জানেন, তাহলে মূল কপিটি কিনতে পারেন। অনুবাদ যতই ভাল হোক না কেন, যে ভাষায় বইটি রচনা করা হয়েছে, তার চেয়ে ভাল হতে পারে না। এর কারণ, একটি ভাষার কারুকার্য অনুবাদের দ্বারা অন্যভাষায় ভালমত ফুটে ওঠে না। এখানে কথা আছে। আপনি যদি মূল ভাষাটিতে ভাল দক্ষ না হোন তবে সেক্ষেত্রে ভাষার অলংকার আপনি ধরতে পারবেন না। তখন একটি ভালমানের অনুবাদ বই কেনাটাই শ্রেয়।

৭) সংকলন না পৃথক বই:

(এই পয়েন্টটি বলতে মনে ছিল না। তাই উত্তরটি এডিট করে এটি যোগ করছি।)

আপনি বই কেনার সময় অনেক ক্ষেত্রে এটির সন্মুখিন হতে পারেন। কোনো একজন লেখকের সবগুলো বই বা তার কয়েকটি বইয়ের সংকলন কিনবেন নাকি সংকলনের মধ্যে থাকা প্রতিটি বই আলাদা করে কিনবেন। সংকলন কিনলে আপনার আর্থিক সাশ্রয় হবে এবং সংকলনগুলো এমনভাবে করা থাকে যাতে করে একটি নির্দিষ্ট ক্যাটেগরির সকল বই-ই, ঐ একটি বইয়ে পাওয়া যায়। কিন্তু হতে পারে যে, আপনার সংকলনের মধ্যে অনেকগুলোই কেনা আছে। সেক্ষেত্রে হয়ত আপনি শুধু একটি বইয়ের জন্য সংকলন না কিনে ঐ বইটি কিনতে পারেন। সংকলনগুলো একটু মোটা হয়। আবার আকারে ছোটো রাখার জন্য অনেকসময় প্রকাশনীগুলো ছোট ছোট হরফে সেগুলো ছেঁপে থাকতে পারে। সেক্ষেত্রেও আপনি একক বইগুলো কিনতে পারেন।

অনেকেই “বই একটা কিনলেই হয়” মনোভাব নিয়ে বই কিনে থাকেন। একে আমি দোষারোপ করছি না। কারণ বই না পড়ার চেয়ে পড়াটা উত্তম। তবে যারা একটু সৌখিন এবং নিজের বাসায় একটি ডেডিকেটেড লাইব্রেরী কক্ষ তৈরী করতে ইচ্ছুক তাদের উপরের বিষয়গুলো নিয়ে ভেবে চিন্তে বই কেনা উচিত বলে মনে করি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *