কেন আপনি ফেসবুকে মার্কেটিং করবেন?

ডিজিটাল মার্কেটিং এর কথা আসলে সবার আগে যে কথাটি মাথায় আসে সেটা হোল- ফেসবুক মার্কেটিং। এখন প্রশ্ন হচ্ছে কেন আপনি ফেসবুকে মার্কেটিং করবেন? অন্য কোন স্যোসাল সাইটগুলোতে নয় কেন? আমি এর ৫টি কারণ আজকে আপনাদের জানাব- যে সমস্ত কারণে আপনি ফেসবুকে মার্কেটিং করবেন। প্রথম কারণ কেবল ফেসবুকে ২ বিলিয়ন সক্রিয় মাসিক ব্যবহারকারী আছে। তাহলে কি দাঁড়াচ্ছে, আপনি ছোট ব্যবসায়ী হোন আর বড় ব্যবসায়ী হোন, আপনি কোন দেশে আছেন, কিংবা আপনার বয়স কত? এগুলো কোন ব্যাপার না। ব্যাপারটা হচ্ছে এই ২ বিলিয়ন ব্যবহারকারীর মধ্যেই রয়েছে আপনার কাঙ্খিত কাস্টোমার।

আপনি লোকাল মার্কেটিং এ কখনোই বয়স, স্থান, পছন্দ কিংবা আরো অনেক অনেক বিষয় নির্ধারণ করে বিজ্ঞাপন চালাতে পারবেন না, যা আপনি ফেসবুকে করতে পারবেন। ফেসবুকের মত এত বড় মার্কেটপ্লেস আপনি টুইটার বলেন, ইন্সটাগ্রাম বলেন আর পিন্টারেস্ট বলেন কোথাও পাবেন না। আর এটাও সত্য কথা যে সবার অন্যান্য স্যোসাল মিডিয়াতে একাউন্ট না থাকলেও ফেসবুকে অবশ্যই আছে। আর আপনি অনায়াসে তাদের আপনার কাস্টোমার বানাতে পারেন। এটাই হচ্ছে প্রথম এবং প্রধান কারণ। দ্বিতীয় কারণ হল গড় ফেসবুক ব্যবহারকারীর দুইশত বন্ধু আছে। কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ।

এটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ আপনার ২ জন বন্ধু যখন একটি পোস্ট পছন্দ করে তাহলে ৩য় জন কৌতুহল বশত সেটিতে ক্লিক করে, আর ফেসবুক এটিকে অনেক বেশি প্রাধান্য দেয়। ২ জন বন্ধু থেকে ৩ জন, ৩ জন থেকে ৯ জন এভাবে বাড়তে বাড়তে একসময় আপনার পোষ্টটি ভাইরাল হয়ে যায়। আপনার বন্ধু ছাড়াও ফেসবুক আপনার বন্ধুর বন্ধুকে, তার বন্ধুকে যারা এই বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে তাদের সাবার কাছেই আপনার পোষ্টটি পৌছিয়ে দিবে। একবার ভাবুন টার্গেট কাস্টোমার, টার্গেট বন্ধু, কারা কারা দেখছে- কি দিয়ে দেখছে সব আপনি পেয়ে যাচ্ছেন এই ফেসবুক থেকে। তাহলে কেন করবেন না ফেসবুকে আপনার পণ্যের মার্কেটিং? অনেকেই হয়ত বলবেন, ইউটিউবেও তো এখন মার্কেটিং করার সুবিধা আছে, আমিও স্বীকার করছি আছে, কিন্তু আপনি কি বলতে পারবেন- আপনার বন্ধু আপনি যেটা ইউটিউবে দেখছেন সেটা সেও দেখছে? না। [ ইউটিউব মার্কেটিং নিয়ে পরে লিখব] কিন্তু ফেসবুকে সেটা দেখতে পারছেন, আপনার কোন কোন বন্ধু সেটা দেখছে, আর আপনার বন্ধুর বাইরে যারা আছে- তাদের এই সুযোগে বন্ধু বানিয়ে নিন। তৃতীয় কারণটা হচ্ছে আপনি ফেসবুকে যাদের কাছে টার্গেট করে আপনার পণ্যের প্রচার করবেন তাদের সবারই অরিজিনাল প্রোফাইল রয়েছে।

এমন না যে ফেক প্রোফাইলও রয়েছে। কিন্তু ফেসবুকে শুধুমাত্র তাদের কাছেই আপনার পণ্যের প্রচার করবে, যাদের অরিজিনাল প্রোফাইল রয়েছে; এবং যাদের এই বিষয়ে আগ্রহ রয়েছে। আপনি হয়ত ভাবছেন ফেসবুক ছাড়াও অন্য স্যোসাল সাইট তো রয়েছে যারা প্রোফাইল তৈরি করতে দেয়, এটা ঠিক কিন্তু একমাত্র ফেসবুকে ফেক প্রোফাইল রাখার দিন শেষ। তাই কেন এটা ব্যবসার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আপনি যখন আপনার পোষ্টের নিচে দেখবেন কারা কারা লাইক করেছে, কমেন্ট করেছে- তাদের প্রোফাইল ক্লিক করে আপনি সেটা যাচাই করতে পারছেন, তিনি অরিজিনাল প্রোফাইল এর মালিক নাকি ফেক। এ থেকে আপনি বুঝে নিতে পারবেন তারা আপনার পণ্যের ব্যাপারে আগ্রহী এবং পণ্যের ক্রেতা। এটা আপনি ইউটিউব, টুইটার কিংবা অন্য স্যোসাল সাইটগুলোতে করতে পারবেন না। পণ্যের প্রচার করার আগে আপনি ফেসবুকে এনালিটিক্স দেখতে পারছেন, দেখতে পারছেন কোন বয়সের লোক, তাদের জেন্ডার কি, তারা কোথায় থাকে, সবকিছু। কারণ ফেসবুক খোলার সময় একজন ব্যবহারকারী নিজের থেকেই এই তথ্যগুলো ফেসবুকে দিয়ে থাকে। আর ফেসবুকে মার্কেটিং করার জন্য এটাই সবচেয়ে পাওয়ারফুল, কেননা ব্যবহারকারীদের রয়েছে অরিজিনাল প্রোফাইল।

চার নাম্বার কারণটা হচ্ছে ফেসবুকই একমাত্র প্লাটফর্ম যাদের একই সঙ্গে WhatsApp এবং Instagram রয়েছে। আপনি যদি আপনার পণ্যের প্রচার ফেসবুকে করেন তাহলে প্রচারটি শুধু একজায়গায় হচ্ছে না- একই সঙ্গে Facebook Messenger, WhatsApp এবং Instagram এ হচ্ছে। আরো একটি মজার ব্যাপার হচ্ছে প্রথম ১০টি স্যোসাল সাইট যদি আপনি নির্ধারণ করেন দেখতে পারবেন যে প্রথম ৩টির মালিক ফেসবুক। সুতরাং বুঝতেই পারছেন কেন আপনি ফেসবুকে মার্কেটিং করবেন। এছাড়াও বিজ্ঞাপন চালানোর সময় আপনি সরাসরি গ্রাহকদের সাথে Facebook Messenger এর মাধ্যমে কথাও বলতে পারছেন। এছাড়াও আপনার যদি Instagram একাউন্ট থাকে তাহলে আপনি সেখানেও তাদের আমন্ত্রণ জানাতে পারছেন, আপনি নিশ্চিত হতে পারেন সেখানে আরো নতুন কিছু যোগ হবে।

ফেসবুকে মার্কেটিং করার পঞ্চম এবং শেষ কারণটা হচ্ছে ফেসবুক একটি শক্তিশালী মাধ্যম, এবং আপনার যদি মনে হয় এই মুহূর্তে ফেসবুকে বিজ্ঞাপন চালানোর মত বাজেট আপনার নেই তাহলেও সমস্যা নেই- আপনি আপনার পণ্যের প্রচার করতে থাকেন, এখানে বাধা নেই- যখন মনে হবে বাজেট দিয়ে প্রচার করবেন, তখন বাজেট দিয়েই শুরু করবেন। তবে অবশ্যই মনে রাখবেন- ফেসবুকে বিজ্ঞাপন চালাতে গেলে আপনার পণ্যের বা সেবার একটি পেজ থাকতে হবে।

এটা ছাড়া আপনি বিজ্ঞাপন দিতে পারবেন না। আর আপনার পণ্যের বা সেবার এই পেজটিকে আস্তে আস্তে কাস্টোমার দিয়ে ভরিয়ে ফেলুন। জানতে চান কিভাবে ভরাবেন, সেটাও ওই বিজ্ঞাপন দিয়েই।

একটি ফেসবুক পেজ এবং সেই পেজের অরিজিনাল গ্রাহকরা আপনার ব্যবসাকে ১০ গুন বাড়িয়ে তুলবে। তাহলে বুঝতেই পারছেন কেন আপনি ফেসবুকে মার্কেটিং করবেন? কিভাবে একটি বিজনেস ফেসবুক পেজ সেটআপ করবেন সেটা নিয়ে পরের কিস্তিতে লিখব। ডিজিটাল মার্কেটিং সম্পর্কে জানতে ক্লিক করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *