জীবন পরিবর্তন করে দেওয়ার মতো ১০টি বই

১।। বইয়ের নামঃ The Power of Habit

লেখকের নামঃ Charles Duhigg

কাল থেকে রেগুলার ব্যায়াম করবো, কাল থেকে রেগুলার কাজ করবো, কাল থেকেই দুনিয়া চেঞ্জ করে ফেলব কিন্তু সেই “কাল” টা আর আসে না; কারণ আপনি ঠিক মত অভ্যাস বা হ্যাবিট নিজের মধ্যে আনতে পারেননি। Charles Duhigg এর এই বইটি পড়ার সময় সাথে একটি মার্কার রাখবেন যাতে গুরুত্বপূর্ণ লাইনগুলো মিস না হয়ে যায়। আর অবশ্যই চেষ্টা করবেন একটা নোটবুক রাখতে যাতে খুব ভালো ভালো পরামর্শ গুলো এক জায়গায় রেখে দেয়া যায়।

এই বইয়ের একটি লাইন যা আপনাকে প্রায়ই ভাবাবেঃ

“If you believe you can change – if you make it a habit – the change becomes real.”

২।। বইয়ের নামঃ The Art of the Good Life

লেখকের নামঃ Rolf Debelli

সব কিছুই যদি খুব সুন্দর করে করা যায় তবে সেটা সবার কাছে ভালো লাগে আর সেটাকেই বলা হয় আর্ট। আর সাধারন জীবনকে একটু সুন্দর করে গুছিয়ে নিতে পারলেই সেটা হয়ে ওঠে আরও সুন্দর একটি জীবন। সুন্দর জীবনের কিছু পয়েন্টস আছে যা আমরা সামনে থেকেও বুঝে উঠতে পারি না। ঠিক সেই পয়েন্টস গুলো কে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন লেখক Rolf Dobelli. এই বইয়ের একটি কথা যদি প্রতিদিন কাজে লাগাতে পারেন তাহলে আজ থেকে ১ বছর পর নিজের দিকে নিজে তাকিয়ে গর্ব করবেনঃ

Focus on your input, and not the output. Our input we can control; our output we can’t, because chance keeps sticking its oar in.

৩।। বইয়ের নামঃ অন দ্য শর্টনেস অব লাইফ

লেখকের নামঃ সেনেকা

অনুবাদ:সাবিদিন ইব্রাহিম

রোমান দার্শনিক লুকিউস আন্নাইউস সেনেকার লেখা ‘জীবন এতো ছোট কেন’ আমার পড়া সবচেয়ে সেরা বইয়ের একটি। বইটির প্রথমদিকেই জীবন এতো ছোট কেন সেটি নিয়ে অনেকের প্রশ্নের বিষয়টি তুলে আনা হয়েছে। বইটি শেষ করলে আমরা উত্তর পাবো জীবন ছোট নয়। তবে এর সাথে কিছু ‘যদি, কিন্তু’ রয়েছে। সেগুলো অনুসন্ধানের জন্যই বইটি পড়তে হবে। শুধু পড়লেই হবেনা। সেনেকা যে পথ বাতলে দিয়েছেন সেই মতে কাজ না করলে ফল লাভ হবে না। এই স্বল্পমেয়াদী জীবনকে যদি ফলবান, মূল্যবান করতে চাই তাহলে সময়কে কীভাবে কাজে লাগাতে হবে সে বিষয়ে কার্যকরী সদুপদেশ নিয়ে হাজির সেনেকা।

উক্তি “আপনি কী কী করতে অক্ষম সেগুলো নয় বরং আপনি যা যা করতে সক্ষম তা-ই যদি ঠিকঠাকভাবে করেন তাহলে আপনি নিজেই নিজেকে বিস্মিত করবেন।”

৪।। বইয়ের নামঃ The Monk Who Sold His Ferrari 

লেখকের নামঃ Robin sharma

বাংলা অর্থঃ নিজের ঐশ্বর্য ত্যাগ করা এক সন্ন্যাসী — রবিন শর্মা

উক্তি

“…If you don’t even know where you are going, how will you ever know when you get there? “

—- Robin Sharma , ” The Monk Who Sold His Ferrari “

বইটিতে গল্পের মাধ্যমে খুব সুন্দরভাবে ৭টি বিষয়ের শিক্ষা দিয়েছেন লেখক । এই সাতটি উপদেশ বা শিক্ষাকেই শান্তিপূর্ণ সফল জীবন যাপনের পাঠ বলা যেতে পারে ।

সেই সাতটি বিষয় ও তার অর্থ খুব সংক্ষেপে তুলে ধরলাম :-

১.বাগান : বাগানের প্রতীকে মনের চিন্তা ভাবনাকে বোঝানো হয়েছে । প্রতিদিন মানুষের মাথায় প্রায় ষাট হাজার চিন্তা আসে । আর এর মধ্যে সিংহভাগ হলো গত দিনের পুরোনো বিষয় । তাই সুন্দরভাবে পজিটিভ চিন্তার দ্বারা মনকে সাজানো উচিত ।

২. বাতিঘর : বাতিঘর হলো জীবনের লক্ষ্যের প্রতীক । লক্ষ্য না থাকলে কোনো কাজই করার মানে নেই । তাই সবার আগে দরকার নিজের জীবনের লক্ষ্য স্থির করা ।

৩. সুমো রেসলার : নিজের উপর আস্থা রাখা । তুলোনা করা কখনোই উচিত নয় । আর তুলনা যদি করতেই হয় , নিজের সঙ্গেই করা উচিত । গতকাল আমি যা ছিলাম , আজ কতটা উন্নত করতে পারলাম তার মূল্যায়ন করা ।

৪. সুমো রেসলার পরিহিত ছোট পোশাক(তার) : ছোটো ছোটো অভ্যাসগুলোর প্রতি যত্নবান হওয়া । অনেকগুলি সূক্ষ্ণ সুতো দিয়ে তৈরি দড়ি দিয়ে বড় জাহাজও বাঁধা যায় । তাই নিজের ছোট ছোট অভ্যাসের দ্বারাই বড় স্বপ্ন সফল করা সম্ভব ।

৫. ঘড়ি : এই বইতে ঘড়ির দ্বারা বোঝানো হয়েছে সময়কে ।

সত্যিই তো একমাত্র সময়কে কাজে লাগিয়েই আমরা জীবনকে পাল্টে দিতে পারি । তাই সবার আগে সময়কে গুরুত্ব দেওয়া উচিত ।

৬. ফুলের ঘ্রাণ : নিজেকে অন্যের কল্যানে উৎসর্গ করা প্রয়োজন । কারণ , যে হাত অন্যকে ফুল দেয় সেই হাতে ফুলের সুন্দর গন্ধ লেগে থাকে । তাই একাধিক মানুষের মনে সুন্দর খুশি ছড়াতে পারলে নিজের জীবনও হয়ে ওঠে ফুলের মতো সুন্দর ।

৭. ডায়মন্ড ঘেরা পথ : এই প্রতীকে বোঝানো হয়েছে বর্তমানকে । মানুষের হাতে একটাই ব্যবহারযোগ্য সময় আছে , তা হলো বর্তমান । অতীত নয় ভবিষ্যৎও নয় — শুধু বর্তমানকে সঠিক ব্যবহার করেই আমরা সুন্দর ভবিষ্যৎ জীবন গড়তে পারি ।

এইভাবেই গল্পের ভেতরে সন্ন্যাসীর ধাঁধায় সাতটি উপদেশের মাধ্যমে বইটিতে আমরা দারুন শিক্ষা পাই । যা জীবন বা জীবনের ধারণাটাই বদলে দিতে পারে । আরও অনেক বিষয় রয়েছে বইটিতে , জানতে হলে বইটিই হাতে তুলে নিতে হবে ।

৫।। বইয়ের নামঃ দি প্রফেট

লেখকের নামঃ কাহলিল জিবরান

যে বইটা কয়েক ডজনবার পড়া হয়েছে। যার প্রতিটি লাইন মনে ও হৃদয়ে গেথে রাখার মতো। আমার কাছে কেউ প্রশ্ন করলে কোন বই পড়বো প্রথম দিকে যে অল্প কয়েকটি বইয়ের নাম নেই এটি অন্যতম। এখানে কাজ, কথা, সন্তান-সন্ততি, বিচার-আচার, ধর্ম ইত্যাদি বিভিন্ন মানবীয় বিষয় নিয়ে প্রফেটিক ও দার্শনিক উপদেশ বইটির পরতে পরতে।ইংরেজি অত্যন্ত সহজ ও মধুময় হওয়ার কারণে যে কেউ এটা পড়া শুরু করে দিতে পারেন।

৬।। বইয়ের নামঃ দ্য গ্রেটেস্ট মাইন্ড এন্ড আইডিয়াজ অব অল টাইম

লেখকের নামঃ উইল ডুরান্ট

উইল ডুরান্টকে আমি আমার একজন শিক্ষক মনে করি। বিশেষ করে দর্শন ও ইতিহাসের তিনি এক অসাধারণ শিক্ষক।তিনি নিজেকে ‘আমি মহামানবদের লাজহীন স্তাবক’(শেইমলেস ওরশিপার অব গ্রেট মেন) হিসেবে উপাধি দেন। নিজের মধ্যেও এই গুণ ডুরান্টকে আমার শিক্ষক বানিয়ে দিয়েছে। আমিও মহামানবদের পথের ধূলি গুনতে যে ভালোবাসি! উইল ডুরান্টের কাছ থেকে বড় মানুষদের গল্প শুনা একটি অসাধারণ অভিজ্ঞতা। প্রায় দুইবছর আগে পড়া ‘দ্য গ্রেটেস্ট মাইন্ড এন্ড আইডিয়াজ অব অল টাইম’ বইটি এখনো মনের মণিকোঠায় জায়গা করে রেখেছে। এখন উইল ডুরান্টের ‘দ্য স্টোরি অব ফিলসফি’ পড়তে গিয়েও একইভাবে নাড়া খাই।’ সারা জীবন জ্ঞান সাধনার পেছনে বিলিয়ে দেওয়া মহান সাধকদের একজন হিসেবে উইল ডুরান্টের কাছ থেকে মহামানবদের গল্প শুনা সবসময়ই অনেক অনুপ্রেরণার।

৭।। বইয়ের নামঃ অসমাপ্ত আত্মজীবনী

লেখকের নামঃ শেখ মুজিবুর রহমান

বাংলাদেশের রাজনীতির সবচেয়ে বড় চরিত্রটিকে নিয়ে একটি অসাধারণ বই। অবশ্য এক্ষেত্রে লেখক নিজেই নিজের বেড়ে উঠা, রাজনীতির জগতে প্রবেশের আলেখ্য এবং বিভিন্ন অভিজ্ঞতার গল্প তুলে এনেছেন। কিন্তু আফসোস থেকে যাবে এই কারণে যে মাত্র ৩৪ বছর অবধি (১৯৫৪ সাল) অভিজ্ঞতার কথা বর্ণিত হয়েছে। যদি আরও সময় পাওয়া যেতো হয়তো ১৯৭১ এ পৌছতে পারতেন। সেটা হলে একটি অসাধারণ কাজ হতো। কিন্তু আফসোস থাকলেও সন্তুষ্টি এই যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে লেখা কয়েক হাজার বইয়ের মধ্যে প্রথম সাড়িতে রাখার মতো বই পাওয়া গেল।

৮।। বইয়ের নামঃ ফ্রিডম এট মিডনাইট

লেখকের নামঃ ডমিনিক লেপিয়ার ও ল্যারি কলিন্স

ব্রিটিশদের কাছ থেকে ভারত-পাকিস্তানের স্বাধীনতা প্রাপ্তির ইতিহাস নিয়ে সেরা বইয়ের একটি। ইতিহাস এত মধুর ও সুখপাঠ্য হতে পারে এ বইটি দেখিয়ে দেবে। ইতিহাসের চরিত্রগুলো যেন কোন উপন্যাস বা গল্পের চরিত্র হিসেবে বইয়ের পৃষ্ঠায় পৃষ্ঠায় চলে আসবে। লেখকদ্বয়ের কলমের তুলি এতই শক্তিশালী যে একজন সাধারণ ভারতীয় নাগরিকের চরিত্রায়নও অনেক স্পষ্ট করে ফুটে উঠেছে। গান্ধী, নেহরু, জিন্নাহ, মাউন্টব্যাটেন সহ প্রত্যেকটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র অত্যন্ত সুন্দরভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। ব্রিটিশ ভারতের শেষ পঁঞ্চাশ বছর এবং সে সময়ের সবগুলো রাজনৈতিক উল্লম্ফন বর্ণিত আছে বইটিতে। একটি বই পড়ে যারা ওই পিরিয়ডটাতে দাঁত বসাতে চান তাদের জন্য এ বইটি বিনা দ্বিধায় হাতে নিতে পারেন। বইয়ের পাতায় ভ্রমনটা অসাধারণ উপভোগ্য হবে আমি শতভাগ নিশ্চয়তা দিতে পারি।

৯।। বইয়ের নামঃ নেপোলিয়ন ইমমোর্টাল

লেখকের নামঃ জেমস কেম্বেল, জন মারি

আমার প্রিয় নায়কদের একজন নেপোলিয়ন। নেপোলিয়নের জীবন ও কর্ম আমাকে ছোটবেলা থেকেই অনুপ্রাণিত করে আসছে। এজন্য নেপোলিয়ন নিয়ে যখনই কোন লেখা পাই পড়ে ফেলার চেষ্টা করি। নেপোলিয়নকে নিয়ে পড়া সেরা বইটি হচ্ছে ‘নেপোলিয়ন ইমমোর্টাল’ বইটি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে কয়েক সপ্তাহ লাগিয়ে এই বড় বইটি পড়ে শেষ করেছিলাম। লেখক দুজন এত সুন্দরভাবে নেপোলিয়নের ছবি একেছেন যেন মনে হবে পাঠক নেপোলিয়নের যুগে, নেপোলিয়নের পাশে দাড়িয়েই সব কিছু দেখছেন। থমাস কার্লাইল আর এমারসনের সাথে সাথে এই বইটি হতে পারে নেপোলিয়ন ভক্ত, শত্রু বা আগ্রহীদের জন্য অবশ্যপাঠ্য একটি বই।

১০।। বইয়ের নামঃ My Experiments with Truth মাই এক্সপেরিমেন্টস উইদ ট্রথ

লেখকেরঃ মহাত্মা গান্ধী

গান্ধীর বিভিন্ন পলিসির সাথে আমি একমত হতে পারি না, তার সাথে বিভিন্ন বিষয়ে ভয়ানক মতবিরোধ হয়। কিন্তু আমার জীবনে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলা ব্যক্তিত্বদের একজন হিসেবে গান্ধীর কথা বাদ দিতে পারি না। তার অন্তরঙ্গ পরিচয় পাওয়ার জন্যই এ বইটির দ্বারস্থ হয়েছি।কয়েকবার এ বইটি পড়ার মাধ্যমে গান্ধীর অন্দরমহলের সাথে পরিচিত হয়েছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *