রাজনীতি

এই অতীব গুরুত্বপূর্ণ নাটকের যবনিকা পতন নেই। একমাত্র চরিত্র
প্রভু মঞ্চে পর্দার অন্তরালে থেকে তাৎক্ষণিক বানানো সংলাপ বলেন যা ইচ্ছা তাই।
পর্দা ওঠে না তাই পর্দার পতন নেই। অন্ধকার মঞ্চে মাইকের সামনে বসে
প্রভুর চোখ বিশেষ স্ক্রিনে। সেই পর্দায় আলো ঝলমল হলের প্রতিটি কোণ প্রভুর দৃষ্টির সামনে ফুটে ওঠে।
নাটকের থিম লজ্জা ঘেন্না ভয় তিন থাকতে নয়। ঝুলে থাকা পর্দা কোনোদিন ফাঁস হলে তাতে কিই
বা এসে যাবে প্রভুর। আবেগের বেগে কি বলবেন নিজেও জানেন কিনা কে জানে।
২.
আলোকিত হলে চেয়ারে বসে থাকা ইউনিফর্ম পরা নট নড়নচড়ন মোমের পুতুলরা
সন্তর্পণে চোখের পাতা ফেলছে, লঘু নিঃশ্বাস। আন্ধকার, পর্দা ফেলে মঞ্চে প্রভু বিশেষ পর্দায়
ফুটে ওঠা পুতুলদের দেহের ভাষা পর্যবেক্ষণ করছেন আর ফিককিক হাসছেন।
প্রভু এসেছেন কি না আদতে তাই কেউ বুঝতে পারছে না। অত্যন্ত গোপনীয় ব্যাপার স্যাপার।
আমি আসলাম।
হঠাৎ মাইক্রোফোনের বক্সে প্রভুর কণ্ঠস্বরে সবাই হুড়মুড় করে দ্রæত উঠে দাঁড়াতে
চেষ্টা করলো কে আগে দাঁড়াবে। আহা চোট লাগবে অত তাড়া কিসের।
৩.
এবার বসা হোক ধীরে ধীরে অতি ধীরে। এবার শ্রোতাগণ ধীরে অতি ধীরে বসার প্রতিযোগিতায় নামলো।
এবার শ্রোতাগণ প্রায় উপবেশন অবস্থায় অর্থাৎ চেয়ারে বসা অবস্থায় স্থির হয়ে গেল। স্কুলে শাস্তি পাওয়া
ছেলেদের এইভাবে চেয়ারে বসা অবস্থায় থাকতে হতো দু’হাতে কান ধরে। সেই স্মৃতি কারও কারও মনে
জাগরিত হলো। অন্তরালে আছেন প্রভূ। হাসি মুখে তাই এই যম যন্ত্রণা ভোগ করা।
সত্যপীরের পুখের পাঁচালী পুরাণে একে বলা হয় প্রায় পোবেশন ব্রত। শরীর ফিট মন সতেজ হয়।
আচ্ছা পাঁচ মিনিট হলো, এবার বলা যেতে পারে। ভারী
শরীরে আঁটোসাঁটো ইউনিফর্ম পরে ধপ ধপ বসা। শত চেষ্টা করেও বাঁকা লেজ সোজা হয়।
তবে প্রভু, এমনকি তার ছায়া দেখলেও, কণ্ঠস্বর কানে গেলেও অটোমেটিকভাবে লেঞ্জ নড়ে ওঠে।
৪.
প্রভুর মন ভেজাতে তারা সিক্ত ভিজে লাল বর্ষণ করে। এই রঙ্গ আলয়ের বন্ধ দরজার
ওদিকে বাইরে পাহারায় আছে গোপনে অস্ত্রধারী নাক কাটা জগন্নাথ, পচা ধেনো, ল্যাংড়া রামু, চিমসে ভুলে।
এরা একাই পাঁচটা মেয়ের সঙ্গে লড়ার ক্ষমতা ধরে। তাছাড়া তোলা আদায়, পেটো ছোঁড়া,
লাশ নামান, জগা ছোঁড়াখুঁড়ি। এরা নির্ভয় কেন না মাথার ওপর আছেন প্রভু।
পোষ্যদের কেনেলে, সব স্তরের পোষ্যদের মধ্যে একদম ই কান কাটা-এমন কিছু প্রজাতি আছে।
সমান তালে লেজও নড়ে তাদের। সাক্ষাৎ শিষ্যরা মন পেয়েছে, বীজ মন্ত্র দিয়েছেন প্রভু – লজ্জা ঘেন্না ভয়, তিন
কি রঙ্গ দেখাচ্ছ তুমি! কি রঙ্গ দেখাচ্ছ!
৫.
সর্ব বঙ্গের আকর তুমি নাচাচ্ছ, কাদাচ্ছ। পদ্য শোনার পর টেবিলে ঘুসি মারার দাস শব্দ হলে ভীত আবৃত
ঘেউ রব ধ্বনিত হলো। অ্যাই যে বড়ো কর্তা তিনটে লেজ ধারণ করেন নামের পেছনে
তিনটে পদবি একটা মড়া মেয়েকে হাইজ্যাক করার হিম্মত নেই! অর্ধেক তো পুড়িয়ে
দেওয়া হয়েছিলই বাকিটুকু শ্মশানে সে রাতে হলো না কেন?
আমরাই মুখ পোড়া হয়ে গেলাম। একটা মড়ার সার্টিফিকেট জোগাড় করা গেল না।
আমার কাছে গোছা গোছা আছে, গোছা গোছা।
জ্যান্ত, মড়া,
অ্যামেরিকার পি এইচ ডি-র ড. হরেক কিসিমের ছাপ ছোপ মারা।
যখন যেটা দরকার কষ্ট করে নামধাম লিখে সই করা। এই তো
সহজ উপায়। আপনারা সাক্ষাৎ ধর্মরাই নাকি?
যুধিষ্ঠিরের পেছন পেছন লেজ নাড়তে নাড়তে স্বর্গে গিয়েছিলেন! আপনাদের চুল্লিতে চড়াব।
৬.
মধ্যমের উত্তম পরিণতি চুলোয় গেল অধমের অধম শ্রাদ্ধ গড়াল যমুনার ঘাট অবদি! উচিত
কথা বলতে গিয়ে আমার ভাই এর ল্যাজ তুলে পালিয়ে আসার অবস্থা হলো- আপনাদের কাছ থেকে
কোনো পোটেকশন পেল না। একটা বেগুন পোড়ার জন্যে তো দেশে দেশে কলহ।
আহা রে চটকে তেল নুন লঙ্কা মেখে খাওয়া গেল না!
আপনাদের জিভেও জল দেখছি। নিমতলার ঐ বেওযাদবকে ক্যাওড়াতলায়
পাঠিয়ে দেবেন আমি ডেথ সাটিফিকেট দিয়ে দেব।
আমার সঙ্গেই আগে কথা বলে পোস্টমর্টেম রিপোর্ট দিতে হবে।
৭.
আমিই আইন
আমি যা বলবো তাই হবে।
ছোট ছোট ছেলেরা দুষ্ট হবে না তো ঘাটের মড়ারা হবে। ওদের দোষ কি?
ও কেন এত সুন্দরী হলো?
টুকটুকে টমাটোর পেটে কোন প্রজাতির বীজ নিতে এসব ডি এন এ টেস চলবে না আমার ভাইদের।
উকিল আমার পোষা কোকিল। সব কেঁচো চাষ করে নতুন করে জামিন যোগ্য ধারার ফর্ণ লিখুন।
সবাই নিরুদ্দেশে যাবে হনুলুলুতে।
৮.
জয় শুধু জয় চাই। লজ্জায় লজ্জা দেবী পালাবে। ভালোই হতো
খবরদার! বেয়াদপ অবাধ্যদের জঙ্গলে পাঠিয়ে দেব হুশিয়ার!
কামদুনি একটা অশ্লীল শব্দ জিততে পারলি অপরাজিতা?
শেষ পরিণতি জরাসন্ধের দশা।
পোস্টমর্টেমের রিপোর্টার টাকা খেয়েছে একথা রটিয়ে দেবেন।
সত্যিকে মিথ্যা আর মিথ্যাকে বলুন সত্যি তিন সত্যি।
আপনারা ফুলিস কে বলে?
আমি আপনাদের ‘স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড’ সম্মানে ভূষিত করব আর প্রচুর টাকা পারিতোষিক নিব।
৯.
পরিতুষ্ট হয়ে শ্রোত্রীগণ দাঁড়িয়ে প্রবল বেগে ল্যাজ নাড়তে লাগলো
আমি স্ক্রিনে দেখতে পাচ্ছি একজনের লেজ নড়ছে না। একদম দু’কান কাটা পাঁচজন ভাই দাঁড়
করলো তারপর তার গলার বোতাম টিপে দিল।
আমি ঘোষণা করছি। আপনাদের প্রত্যেকের জন্য ওপর থেকে নিচে সকলে দেহরক্ষী পাবেন।
আমার ভাইরা আপনাদের রক্ষার দায়িত্ব নেবে। এবার সেই সে নিজেই গলার বোতাম টিপে
ডান্ডা মাইকের সামনে এসে বললো – কোথায় চলেছেন প্রভু? এ আপনি কোথায় চলেছেন?
পিন পড়লে শোনা যাবে এমন নৈঃশব্দ। তারপর কড়কড় কড়াং-
আমি কোথায় চলেছি তাতে তোর কী রে ঘিয়ে ভাজা?
অ্যাই কে আছিস এই নেড়িটাকে জঙ্গলে পাঠিয়ে দে।
এখানে একটা ডিজিটাল জেল খুলতে হবে দেখছি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *